পড়া মনে রাখার উপায় - পড়া বোঝার উপায়

পড়া মনে রাখার উপায় বা পড়া বোঝার উপায় কি জানতে চান? তাহলে আপনি সঠিক জায়গাতেই এসেছেন। আজকের এই প্রবন্ধে আমরা পড়া মনে রাখার উপায় বা পড়া বোঝার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছি।

তাহলে চলুন আর দেরি না করে পড়া মনে রাখার উপায় বা পড়া বোঝার উপায় নিয়ে বিস্তারিত জেনে আসি।

পোস্ট সূচিপত্র: পড়া মনে রাখার উপায় - পড়া বোঝার উপায়

পড়ার পদ্ধতি

প্রিয় বন্ধুরা, পড়া মনে রাখার উপায় বা পড়া বোঝার উপায় কি? তা জানার আগে আমাদেরকে পড়ার পদ্ধতি বা কিভাবে পড়লে পড়া খুব সহজে মনে রাখা যায় তা নিয়ে জানতে হবে। আমরা এখানে পড়া মনে রাখার বেশ কয়েকটি পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেছি।

শব্দ করে পড়া: পড়ার সময় শব্দ করে পড়ো। কিন্তু তা তোমার নিজের জন্য অবশ্যই লোক দেখানো নয়। যতটুকু শব্দ করে পড়লে তোমার ব্রেনে খুব সহজে পৌঁছাতে পারে ততটুকু শব্দ করে পড়ো। শব্দ করে পড়লে পড়া ব্রেনে খুব সহজে পৌঁছে যায়। এতে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।

সঠিক সময় নির্ধারণ করে পড়া: আসলে পড়ার জন্য নির্ধারিত কোন সময় নেই এটা একান্তই তোমার নিজের উপর নির্ভর করছে যে তুমি কখন পড়ার জন্য সময় দিতে পারবা। অধিকাংশের মতে সকালে ফজরের নামাজ শেষ করে পড়া শুরু করলে খুব ভালো ফলাফল পাওয়া যায় এর কারণটা হলো রাত্রে ঘুমানোর সময় ব্রেন ক্লিয়ার থাকা। আর সকালে পরিবেশটা ঠান্ডা থাকে তখন কেউ তোমাকে বিরক্ত করতে পারে না। আর তাই পড়াশোনায় পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয়।

দীর্ঘ সময় ধরে পড়া: দীর্ঘ সময় ধরে পড়ার জন্য আরামদায়ক স্থান পরিত্যাগ করা প্রয়োজন। এর জন্য তুমি ফ্যানটা বন্ধ করে রাখতে পারো। একটানা বইয়ের দিকে না তাকিয়ে থেকে প্রতি দুই মিনিট পরপর চোখটা ডানে-বামে ও সামনে দৃষ্টি পরিবর্তন করে রিফ্রেশ করে নেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় পড়ার জন্য প্রতি ২০ মিনিট অন্তর হাটাহাটি করলে এটা ব্রেনের জন্য ভালো কাজ করবে।

পড়া মনে রাখার খাবার

সকাল-বিকালে টিচারের কলিংবেলে গেট খুলতে খুলতে জীবন অতিষ্ঠ, তাও যেন কোন উন্নতি নেই। ঠিক এমন অভিযোগ হাজারো অভিভাবকের। তাই একজন অভিভাবককে শুধু পড়াশোনার দায়িত্ব নিলেই হবে না সন্তানের পুষ্টিকর খাবারের দায়িত্বটাও নিতে হবে।

আপনার সন্তানের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকার মধ্যে একমুঠো বাদাম যোগ করা কি সম্ভব নয়!! কারণ বাদামে আছে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট, প্রোটিন ও ফাইবার, যা দীর্ঘ সময় ধরে পড়াশোনার শক্তি যোগায়। ব্রেইন বুস্টিং খাবার হিসেবে ডিমের কোন তুলনা হয় না। কারণে ডিমে বিদ্যমান সেলেনিয়াম, ওমেগা -৩ যা আমাদের নার্ভকে ভালো রাখার জন্য একটি কার্যকরী উপাদান। এছাড়া আপনার সন্তানের খাদ্য তালিকায় লাল, সবুজ ও কমলা সবজি যোগ করুন।

পড়া মনে রাখার উপায়

জার্মান মনোবিজ্ঞানী হারমান এবিনঘস বলেছেন যে, কোনো কিছু পড়ার ঠিক ১ ঘণ্টা পরে তার মাত্র ৪৪ শতাংশ আমাদের মস্তিষ্কে স্থায়ী হয়। এক্ষেত্রে আমাদের করণীয় হলো তাৎক্ষণিক রিভিশন না দিয়ে, ঐ একই বিষয় একটু বিরতি দিয়ে পড়া। এর ফলে পড়া মনে থাকার সম্ভাবনা অনেকটা বেড়ে যায়। একই পড়া বিরতি দিয়ে বারবার পড়ার ফলে তা মস্তিষ্কে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী হয়।

আমরা এখানে পড়া মনে রাখার উপায় বা পড়া বোঝার উপায় ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করেছি যা একজন শিক্ষার্থীর জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

আত্মবিশ্বাস: পড়া মনে রাখার উপায় এর প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো আত্মবিশ্বাস নিয়ে পড়া। মনকে বোঝাতে হবে পড়াশোনা অনেক সহজ বিষয় আমি পারব, আমাকে পারতেই হবে। তাহলে অনেক কঠিন পড়াটাও সহজ মনে হবে। কোনো বিষয়ে ভয় ঢুকে গেলে সেটা মনে রাখা বেশ কঠিন। আর পড়ালেখা করার উত্তম সময় হচ্ছে ভোর। সকালে মস্তিষ্ক ফ্রেশ থাকে।

কনসেপ্ট ট্রি: পড়া মনে রাখার উপায় বা পড়া বোঝার উপায় এর মধ্য আরেকটি হলো ‘কনসেপ্ট ট্রি’। এ পদ্ধতিতে কোনো একটি বিষয়ে শেখার আগে পুরো অধ্যায়টি সাতটি অংশে ভাগ করে প্রতিটি অংশের জন্য এক লাইনে একটি করে সারমর্ম লিখতে হবে। তারপর খাতায় একটি গাছ এঁকে সাতটি সারমর্মকে গাছের একেকটি পাতায় লিখে রাখতে হবে। পাতাগুলোতে প্রতিদিন চোখ বোলালেই অধ্যায়টি সম্পর্কে একটি পরিপূর্ণ ধারণা পাওয়া যায়। বিশেষ করে বাংলা ও ভূগোলের জন্য এ পদ্ধতি বেশি কার্যকর। এটি একটি পরীক্ষিত বৈজ্ঞানিক ধারণা বলে স্বীকৃত।

কি ওয়ার্ড: যেকোনো বিষয়ের কঠিন অংশগুলো ছন্দের আকারে খুব সহজে মনে রাখা যায়। যেমন: রংধনুর সাত রং মনে রাখার সহজ কৌশল হলো ‘বেনীআসহকলা’ শব্দটি মনে রাখা। প্রতিটি রঙের প্রথম অক্ষর রয়েছে শব্দটিতে। এমনিভাবে ত্রিকোণমিতির সূত্র মনে রাখতে ‘সাগরে লবণ আছে, কবরে ভূত আছে, ট্যারা লম্বা ভূত’ ছড়াটি মনে রাখা যেতে পারে। এর অর্থ দাঁড়ায়, সাইন=লম্ব/অতিভুজ (সাগরে লবণ আছে), কস=ভূমি/অতিভুজ (কবরে ভূত আছে), ট্যান=লম্ব/ভূমি (ট্যারা লম্বা ভূত)।

উচ্চঃস্বরে পড়া: পড়া মুখস্থ করার সময় উচ্চঃস্বরে পড়তে হবে। এই পদ্ধতিতে কথাগুলো কানে প্রতিফলিত হওয়ার কারণে সহজে আয়ত্ত করা যায়। শব্দহীনভাবে পড়ালেখা করলে একসময় পড়ার গতি কমে গিয়ে শেখার আগ্রহ হারিয়ে যায়। 

কেন-র উত্তর খোঁজা: এ নিয়মটা প্রধানত বিজ্ঞানের ছাত্রদের জন্য প্রযোজ্য। তাদের মনে সব সময় নতুন বিষয় জানার আগ্রহ প্রবল হতে হবে। অনুসন্ধানী মন নিয়ে কোনো কিছু শিখতে চাইলে সেটা মনে থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে। 

পড়ার সঙ্গে লেখা: কোনো বিষয় পাঠ করার সঙ্গে সঙ্গে সেটি খাতায় লিখতে হবে। একবার পড়ে কয়েকবার লিখলে সেটা সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয়। পড়া ও লেখা একসঙ্গে হলে সেটা মুখস্থ হবে তাড়াতাড়ি।

পড়া বোঝার উপায়

পড়া বোঝার উপায় এর মধ্য সবচেয়ে প্রচলিত কৌশল গুলির একটি হল স্কিম রিডিং, যেটা আমরা কমবেশি সবাই কখনও না কখনও করেছি। অর্থাৎ স্কিম রিডিং বলতে বোঝায় বইয়ের পাতায় প্রতিটি লাইনে কেবল চোখ বুলিয়ে যাওয়া এবং সেখান থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ খুঁজে বের করে বোঝার চেষ্টা করা। আর এই কাজটি সহজ করতে বইয়ের লাইন বরাবর হাতের আঙ্গুল বা কলম ব্যবহার করা হয়।

পড়া মনে রাখার ইসলামিক উপায়

পড়া মনে রাখার ইসলামিক উপায় এর ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো আপনাকে পালন করতে হবে তা নিম্নরূপ-

  • পড়া শুরু করার আগে কিছুক্ষণ কুরআন তিলাওয়াত শুনে পড়তে বসুন।
  • দীর্ঘ সময় পড়ার মাঝে বিরতি দিন এবং তার ফাঁকে ফাঁকে আপনার পছন্দের কাজটি সেরে ফেলুন। বিরতির সময় রিলাক্স মোডে থাকুন এবং বিরতির সময়টিকে ইনজয় করুন।
  • অধিকাংশের মতে পড়াশোনার জন্য শ্রেষ্ঠ সময় হলো ভোরবেলা। আপনার যদি দিনে ছয় -আট ঘণ্টা পড়াশোনা করা লাগে তাহলে তার দুই চার থেকে পাঁচ ঘন্টা পড়াশোনা আপনি ভোর বেলায় করে রাখতে পারেন। 
  • পড়াশোনার ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রতিযোগিতা করতে হবে তবে অন্যের দিকে তাকিয়ে নিজে হতাশ হলে চলবে না। নিজের জন্য কোন নিয়মটা বেটার সেটা প্রথমে একজন স্টুডেন্ট কে খুঁজে নিতে হবে, অন্যের দিকে না তাকিয়ে নিজের সর্বোত্তমটা দিয়ে প্রচেষ্টা করতে হবে।
  • আপনি চাইলে পড়াশোনার মাঝে স্বল্প বিরতির জন্য অনলাইনে আসতে পারেন তবে অনলাইনে ১০ মিনিট বিরতির জায়গায় ১-২ ঘন্টা সময় যাতে ব্যয় না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তার মানে নিজেকে কন্ট্রোল করার ক্ষমতা তৈরি করতে হবে।

এগুলো অনুসরণ করলে বলা যায় আপনার ব্রেন পড়াশোনা দীর্ঘক্ষন ধরে রাখতে পারবে। পড়াশোনা করার ক্ষেত্রে আপনি উপরে উল্লেখিত নিয়মগুলো অনুসরণ করতে পারেন তাহলে আশা করা যায় আপনি আপনার কাঙ্খিত ফলাফল পাবেন।

কম সময়ে বেশি পড়ার উপায়

আপনি যদি কম সময়ে বেশি পড়াশোনা করতে চান তাহলে আপনাকে পড়াশোনার জন্য একটি সঠিক সময় নির্বাচন করতে হবে এবং তারপর আপনার পছন্দের সময়ে পছন্দের বিষয়টি পড়তে আরম্ভ করুন। এতে খুব সহজে আপনার পড়াশোনায় মনোনিবেশ হবে। আর পড়াশোনায় সহজে মনোনিবেশ এর অর্থ হলো কম সময়ে এবং কম পরিশ্রমে আপনার পড়া তৈরি হয়ে যাবে।

উপসংহার

শেষ কথা হল, যতই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি থাকুক না কেন, উপভোগ করে পড়া হলো পড়া মনে রাখার উপায় বা পড়া বোঝার উপায় এর মধ্যে একটি সার্বজনীন ও সর্বউৎকৃষ্ট উপায়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এমনটি সম্ভব হয়ে ওঠে না। তবে পড়া যেটাই হোক নিজেকে চ্যালেঞ্জ করে পড়তে থাকলে এটি একটি তুলনামূলক উপভোগ্য খেলার মত হয়ে দাঁড়ায়। 

আপনার সফলতা কামনা করে আজকের প্রবন্ধটি এখানেই শেষ করতে হচ্ছে প্রবন্ধটি শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের মাঝে শিক্ষার জ্ঞানটুকু ছড়িয়ে দিন। সেই সাথে এতক্ষণ সময় দিয়ে আমাদের পাশে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন